দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্পেনের উত্তরাঞ্চলের বুর্গোস প্রদেশের ছোট্ট গ্রাম আভেয়ানোসা দে মুনিওতে সাধারণত মানুষের কোলাহল নেই। নেই কোনো দোকান, রেস্তোরাঁ কিংবা নিয়মিত খোলা বারও। স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা হাতেগোনা। তবে ১২ আগস্ট ২০২৬ রাতে এই নীরব গ্রামই পরিণত হতে যাচ্ছে বিরল এক মহাজাগতিক দৃশ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে।
এদিন আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ইউরোপের আকাশে দেখা যাবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। ১৯৯৯ সালের পর মূল ভূখণ্ড ইউরোপ থেকে দৃশ্যমান হতে যাওয়া এটি প্রথম পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। আর মূল ভূখণ্ড স্পেন থেকে এ ধরনের সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ১৯১২ সালের পর এই প্রথম। পূর্ণগ্রহণের সরু পথের মধ্যেই পড়েছে আভেয়ানোসা দে মুনিও।
গ্রামটির বিশেষত্ব শুধু পূর্ণ সূর্যগ্রহণের অবস্থান নয়, এর ভৌগোলিক পরিবেশও। সোনালি গমের ক্ষেত, নিচু পাহাড়, পশ্চিম দিকে বিস্তৃত খোলা দিগন্ত এবং কৃত্রিম আলোর স্বল্পতা সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য এটিকে আদর্শ স্থান করে তুলেছে। স্থানীয়রা গ্রামের ওপরের গুহাগুলোতে জড়ো হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখান থেকে পশ্চিম আকাশের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো গ্রহণের সময়। সূর্য দিগন্তের মাত্র আট ডিগ্রি ওপরে থাকার সময় পূর্ণগ্রহণ ঘটবে। ফলে কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো পুরোপুরি মিলিয়ে গিয়ে তৈরি হবে অস্বাভাবিক এক গোধূলি। স্পেনের পদার্থবিদ ড. মারিয়া তেরেসা লোপেজ সানচেজের ভাষায়, এটি কয়েক মিনিটের মধ্যে দুটি সূর্যাস্ত দেখার মতো অনুভূতি তৈরি করবে।
এরপর রাতেই আকাশে দেখা দিতে পারে পারসিড উল্কাবৃষ্টি। ফলে একই রাতে সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টির বিরল সমন্বয় উপভোগের সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা।
সূর্যগ্রহণকে ঘিরে ইতিমধ্যে বদলে গেছে গ্রামটির চিত্র। কয়েক দশক ধরে জনসংখ্যা কমতে কমতে বর্তমানে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন মাত্র কয়েকজন। অথচ গ্রহণের রাতে পুরোনো বাসিন্দা, তাদের সন্তান-নাতি ও বন্ধুদের অনেকে গ্রামে ফিরছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রাউল গ্রান্দে রেভিয়া জানিয়েছেন, শুধু তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের একটি দলেই প্রায় ২০ জন থাকবেন। এতে এক রাতের জন্য গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে।
১৯৫০-এর দশকে আভেয়ানোসা দে মুনিওতে প্রায় ২০০ মানুষ বাস করতেন। ছিল ছোট ছোট দোকানও। কৃষির যান্ত্রিকীকরণ এবং কর্মসংস্থানের অভাবে ধীরে ধীরে মানুষ মাদ্রিদ, বিলবাও ও বার্সেলোনার মতো শহরে চলে যেতে থাকেন। বর্তমানে গ্রামের আশপাশের পাহাড়ে মানুষের চেয়ে ছাগলের সংখ্যা বেশি।
তবে সূর্যগ্রহণের কারণে বহু বছর পর গ্রামটির পুরোনো বাসিন্দাদের অনেকেই আবার ফিরছেন। শুধু তারাই নন, স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ভেনেজুয়েলা থেকে দর্শনার্থীরা আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আশপাশের হোটেল ও আবাসনগুলোও বহু আগেই বুক হয়ে গেছে।
স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সূর্যগ্রহণকে কেন্দ্র করে বুর্গোসসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের কাছে পরিচিত গন্তব্যের চেয়ে ভালোভাবে গ্রহণ দেখার সুযোগ পাওয়া যায়—এমন স্থানই বেশি আকর্ষণ তৈরি করছে।
১২ আগস্ট রাতে আভেয়ানোসা দে মুনিওতে তাই ফিরবে বহুদিনের হারানো কোলাহল। যেখানে একসময় ছিল মানুষের ভিড়, সেখানে এবার শোনা যাবে অতিথিদের হাসি-আড্ডা। আর কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো হারিয়ে গিয়ে এই প্রায় বিস্মৃত গ্রামটি হয়ে উঠবে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/